Powered by Blogger.
সরকারের বেধেদেয়া মূল্যে চামড়া বিক্রি করলে ব্যবসায় লোকসান গুণতে হবে বলে দাবী বরিশালের মৌসুমী ও মোকামের চামড়া ব্যবসায়ীদের। তারা বলেন এবার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশিদামে চামড়া ক্রয়করে এখন বিপাকে পড়তে হয়েছে । কোরবানির ঈদে এবার
শুধু বরিশাল নগরীতেই লক্ষাধিক কাঁচা চামড়ার আমদানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাইকাররা। তবে এসব চামড়া সরকারিভাবে নির্ধারিত দরের বাইরে বিক্রিতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির আশংকা করছেন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্যবারের মতো এবারও কোরবানির ঈদে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অধিক দামে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে চামড়া ক্রয় করেছেন।
এতে বিপাকে পড়েছেন মূল ব্যবসায়ীরা। মোকামে নিয়ে আসা চামড়াগুলো তাদের চড়াদামে ক্রয় করে আমদানি করতে হচ্ছে। তাদের দাবি, সরকার চামড়ার বেঁধে দেওয়া মূল্য না বৃদ্ধি করলে এবারো তাদের লোকসান গুণতে হবে। এদিকে, মৌসুমী বিক্রেতারাও পড়েছেন বিপাকে। স্থানীয় পর্যায় থেকে সংগ্রহকৃত চামড়া মোকামে বিক্রি করতে এসে তারা কাঙ্খিত মূল্য পাচ্ছেন না। ফলে তারাও রয়েছেন লোকসানের শংকায়।
মৌসুমী ব্যবসায়ী রবিউল্ল্যাহ জানান,  সরকারি যে দাম ছিল ফুটপ্রতি ৬০ বা ৬৫ টাকা দর। কিন্তু মাঠের যে অবস্থা ছিল, তাতে ওই রেটের ওপরে গিয়ে আমাদের চামড়া কিনতে হয়েছে। কিন্তু এখন এখানে এসে প্রতি বর্গফুটে ১৮-২০ টাকা লস হবে দেখছি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবছর বরিশাল নগরীর পদ্মাবতী চামড়ার মোকাম থেকে লক্ষাধিক পিস কাচা চামড়া ঢাকার ট্যানারিগুলোতে যায়। এখানে ৬ জন খুচরা ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা বরিশাল নগরী ও এর আশপাশের এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন।
বরিশাল চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শাহিন জানান, সরকারি রেট লবণযুক্ত চামড়া ৬০-৬৫ টাকা বর্গফুট। কিন্তু মার্কেটে আমরা ৯০-১০০ টাকায় কেনাবেচা করছি। মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কারণেই এ দাম বাড়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
তিনি বলেন, কাঁচা চামড়া, লবণ ও শ্রমিক নানা খরচা বিবেচনা করে নির্ধারিত রেটে কিনতে পারছি না।  তাই বিক্রিও সম্ভব হবে কিনা বুঝতে পারছি না। ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশন যদি রেট না বাড়ায় তবে বড় ধরনের লোকসানের আশংকা রয়েছে। তিনি আশা করেন এবার বরিশাল মহানগরী থেকে এক লাখ পিস গরুর চামড়া ও ৩০ হাজার পিস ছাগল-খাসির চামড়া ঢাকায় যাবে।

No comments:

Post a Comment